ভ্রমণের জন্য অর্থ আয়ের কয়েকটি উপায়

আজ আমরা নিক-ড্যারিয়েন্স দম্পতির কথা জানবো যারা দীর্ঘ সফরে থাকাকালীন অর্থ আয়ের মিশনে ২০০৮ সালে কানাডা ছেড়েছিলেন, যাতে তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশে ভ্রমণ করতে পারেন এবং থেকে যেতে পারে। তারা অগণিত ভ্রমণসংক্রান্ত চাকরি করেছে এবং বিদেশে বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহের ওপর একটি বই লিখেছেন। ঘুরে বেড়ানোর জন্য অর্থ জোগাতে ভ্রমণে থাকাকালীন সময়ে বা নিয়মিত চাকরির বাইরে অর্থ আয়ের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতিগুলোর কথা তারা ব্লগে লিখেছেন।

নিক-ড্যারিয়েন্স দম্পতি; image courtesy: goatsontheroad.com

ভ্রমণে থাকাকালীন অর্থ আয়ের বড় উদাহরণ এই দম্পতি। প্রথমদিকে তারা ভাবতেও পারেননি ঘুরে বেড়ানোর সময়ও অর্থ আয় করা যায়। স্বাধীনতা ভোগ করতে তারা চাকরি ছেড়ে দিয়ে কানাডাকে পেছনে ফেলে পূর্ণ দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও উপমহাদেশে উড়ে আসতে চেয়েছিলেন। তারা তাদের সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে ও অর্থ জমিয়ে ৪০ হাজার ডলার একত্রিত করেছিলেন। সেই বছরটি ছিলো তাদের জীবন বদলে যাওয়ার বছর, চোখ খুলে যাওয়ার বছর।

সকল স্তরের মানুষের সাথে মেশা, তাদের সংস্কৃতি, ধর্ম ও জীবনযাপনের সাথে পরিচিতি তাদের মুগ্ধ করেছে। ঘুরে বেড়ানোর পোকা তাদের মাথায় ঢুকে গিয়েছিলো। ঘুরে বেড়িয়ে আয় করার পথ খুঁজছিলেন তারা। তারা সত্যিই ভাবতে পারেননি ভ্রমণ করে অর্থ আয় করা যায়। তারা ভেবেছিলেন কানাডায় ফিরে আবার অফিসে কাজ করা তাদের একমাত্র আয়ের পথ। তাই তারা সব ফেলে শেষ বারের মতো কানাডায় ফিরে পুরানো কাজে যোগ দিলেন এবং এক বছর সেই কাজ চালিয়ে গেলেন।  

ঘুরে বেড়ানোর সময়ে অর্থ আয় শুরু করার আগে ব্যাংকে কিছু সঞ্চয় থাকা ভালো বলে মনে করেন তারা। অর্থ সঞ্চয়ে তারা কিছু পথ অবলম্বন করেছেন। সেগুলো হলোঃ

(ক) তাদের অব্যবহৃত থাকার ঘরটি প্রতি মাস ৮০০ ডলারের বিনিময়ে বন্ধুর কাছে ভাড়া দিয়েছেন।

(খ) নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময়ে কাজ করেছেন এবং সন্ধ্যায় ও সপ্তাহান্তে আরেকটি চাকরি করেছেন।

(গ) বাইরে খেতে যাওয়া, রাতে বাইরে ঘুরে বেড়ানোর মতো বিনোদনমূলক কাজ তারা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এতে তাদের মাসে ৫০ ডলার সঞ্চয় হতো।

(ঘ) ইন্টারনেট, মোবাইল ফোনের ব্যবহার একেবারেই কমিয়ে দিয়েছিলেন যাতে কম বিল দিতে হয়। নিক তার দামি গাড়িটা বিক্রি করে দিয়ে সস্তা একটি গাড়ি কেনেন। ড্যারিয়েন্স ট্রানজিট পাস কেনার বদলে হেটে কাজে যেতেন। বাড়তি সবকিছুই তারা বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

(ঙ) কাজে থাকাকালীন তারা টানা কাজ করে গেছেন, কোনো ছুটি নেননি। ফলে বছর শেষে তারা বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছেন।

তারা কেউই ধনীর দুলাল নয় যে পরিবার থেকে ঘুরে বেড়াতে অর্থ পাবেন। অর্থ আয় করেই তাদের ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। ভ্রমণে থাকাকালীন অর্থ আয়ের কয়েকটি পদ্ধতির কথাই তারা লিখে জানিয়েছেন আগ্রহীদের।

জনসম্মুখে বক্তৃতা

কোনো নির্দিষ্ট বিষয় যেমন- অর্থনীতি, দর্শন, ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান,প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে যদি আপনার যথেষ্ট জ্ঞান থাকে, আপনি সারা বিশ্বের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে বক্তৃতা করতে পারেন।

জনসম্মুখে বক্তৃতাদানের মাধ্যমে দেশ-বিদেশ ঘুরতে পারেন আপনি; image courtesy: businessinsider.com

অনুষ্ঠানের আয়োজকরাই আপনার থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা দেবে, একই সাথে আপনাকে ভালো অঙ্কের সম্মানীও দেবে। জনসম্মুখে বক্তৃতার বাইরের সময়টুকু ঐ শহর বা দেশটির অন্যান্য শহরও ঘুরে দেখলেন। রথও দেখা হলো, কলাও বেচা হলো। জনসম্মুখে বক্তৃতা করতে আগ্রহী হলে আবেদন করতে পারেন এখানে

ভ্রমণ বা ফুড ব্লগিং

কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিভাবে যেতে হয়, কিভাবে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়, থাকার ব্যবস্থা কী, ঘুরে বেড়ানোর মতো কী কী জায়গা আছে, কেমন খরচ হতে পারে, কোন কোন খাবার প্রসিদ্ধ, কোনো বিশেষ সতর্কতা আছে কিনা ইত্যাদি সকল বিষয়ের ওপর বিস্তারিত লিখে ব্লগ তৈরি করতে পারেন।

দি পুওর ট্রাভেলার ব্লগের নীড়পাতা; image courtesy: elegantthemes.com

ব্লগের ভালো ট্র্যাফিক হলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, বিজ্ঞাপনের জন্য জায়গা বিক্রি করে, পে পার ক্লিক বিজ্ঞাপন ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থ আয় করতে পারেন।

ব্র্যান্ড দূত হিসেবে কাজ করা

নির্দিষ্ট কোম্পানির ব্র্যান্ড দূত হলে, তাদের জন্য কনটেন্ট নির্মাণের বিনিময়ে তারা আপনার ভ্রমণ খরচ যোগাবে।

ঘুরে বেড়ানোর অর্থ যোগাতে কোম্পানির ব্র্যান্ড দূত হিসেবে কাজ করতে পারেন; image courtesy: dailystar.co.uk

কোম্পানিগুলো চাইবে আপনি যেন তাদের পণ্য বা সেবা ব্যবহার করেন এবং আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে তাদের পণ্য বা সেবা সম্পর্কে লিখেন। তারা আরো চাইবে কোনো জায়গায় বেড়াতে গিয়ে আপনি যেন তাদের ব্র্যান্ডকে তুলে ধরে কোনো বিষয়ে ভিডিও তৈরি করেন।

ভাষা শিক্ষা দেওয়ার চাকরি

আপনি যদি ইংরেজি, জার্মান, স্প্যানিশ, ফরাসি ইত্যাদি ভাষা জানেন এবং পড়াতে আগ্রহী হন, তাহলে অনলাইন এবং অফলাইনে এধরনের চাকরি খুঁজে নিয়ে অর্থ আয় করতে পারেন এবং আপনার ঘুরে বেড়ানোর খরচ যোগাতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবক হিসেবে কাজ করা

বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বা সেবার প্রচারে আপনি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব) ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অডিয়েন্সের পরিমাণ ভালো হলে উক্ত কোম্পানির পণ্য বা সেবা নিয়ে আপনার পোস্ট অনেকের কাছেই পৌঁছাবে এবং কোম্পানি আপনাকে এর বিনিময়ে অর্থ প্রদান করবে। এই অর্থ দিয়ে আপনি দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

প্রমোদ তরীতে চাকরি করা

জাহাজে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করলে প্রমোদ তরীগুলোতে চাকরি নিতে পারেন। বন্দর থেকে বন্দর ঘুরে ঘুরে নতুন জায়গা দেখবেন, অর্থও আয় করবেন পাশাপাশি।

ভ্রমণ গাইড হিসেবে কাজ করা

যদি কোনো জায়গা সম্পর্কে আপনি ভালো করে জানেন এবং দোভাষী হিসেবে কাজ করতে পারঙ্গম হন, তাহলে ভ্রমণ গাইড হিসেবে কাজ করতে পারেন। এতে আপনার ঘুরে বেড়ানোও হবে আবার সেখান থেকে আয়ও হবে।

ভালো লাগার কাজটি করলে কষ্ট মনে হয় না। উপরের তালিকার বাইরেও ভার্চুয়াল সহকারী, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা ইত্যাদির মতো কাজগুলো ঘুরে বেড়ানোর সময় আপনার প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাবে।

Written by Sadman Sakib

ইউটিউব থেকে অর্থ আয়: যেভাবে মনিটাইজেশন করবেন আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি

কম ঝুঁকিতে উচ্চ আয়ের বিনিয়োগ ক্ষেত্র