বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনী ব্যবসায়ী

পৃথিবীতে ধনী গরীবের ব্যবধান যে ক্রমশই বাড়ছে সেটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফ্যামের একটি কথাতেই পরিষ্কার হয়। অক্সফ্যামের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী আটজনের কাছে থাকা সম্পদ তাবৎ পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের কাছে থাকা সম্পদের অর্ধেকের সমান।

ফোর্বস ম্যাগাজিন ২০১৯ সালের ৫ মার্চ বিশ্বের সেরা ধনীদের তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকার শীর্ষে আছেন জেফ বেজোস। অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের এক বছরের ব্যবধানে সম্পদ বেড়েছে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

চলুন বিশ্বের ধনীদের তালিকায় শীর্ষে থাকা মানুষগুলো নিয়ে আলাপ করা যাকঃ

জেফ বেজোস

ফোর্বস কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ধনীদের তালিকার প্রথম স্থানটি দখল করে আছেন জেফ বেজোস। ই-কমার্স জায়ান্ট  অ্যামাজন ডট কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোসের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং আর কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়েন । তারপর নিউইয়র্কে কয়েকটি ফিন্যান্স কোম্পানিতে চাকরি করেন।

কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পর জেফ বেজোস আজ সফল; Image Credit: cnbc.com

৩০ বছর বয়সে বেজোসের চোখে একটি পরিসংখ্যান পড়ে যাতে ইন্টারনেটের দ্রুত বৃদ্ধির তথ্য দেওয়া হয়েছিলো। এরপরই তিনি চাকরি না করে নিজেই কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যামাজনকে তিনি বই বিক্রির প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু করেন। ২০১৮ সালে অ্যামাজন ডট কমের নীট আয় ছিলো ১০.০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিল গেটস

৯৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। একটানা ১৩ বছর যাবৎ তিনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। বিল গেটস ওয়াশিংটনের সিয়াটলে বড় হয়েছেন। তার বাবা সিয়াটলের একজন ধনী উকিল ছিলেন, আর মা একজন ধনী ব্যাংকারের মেয়ে ছিলেন । 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ না করেই পল এলেনের সাথে তিনি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭৫ সালে। ২০০০ সালে বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর তিনি অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

ওয়ারেন বাফেট

৮২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন মার্কিন ব্যবসায়ী ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন তিনি। বিংশ শতকের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে মনে করা হয় তাকে। টাইম ম্যাগাজিন ২০১২ সালে তাকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘোষণা করে।

বিনিয়োগ গুরু হিসেবেই ওয়ারেন বাফেট সমধিক পরিচিত; Image Credit: vanityfair.com

বিপুল ধনসম্পদের মালিক হওয়ার পরেও ওয়ারেন বাফেট বেশ মিতব্যয়ী। বাফেট প্রখ্যাত জনহিতৈষী ব্যক্তি। তিনি তার সম্পদের শতকরা ৯৯ ভাগ জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ব্যয় করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার প্রস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে ২০১২ সালে।

বার্নার্ড আর্নল্ড এবং তার পরিবার

ফোর্বসের শীর্ষ ধনীদের তালিকার চতুর্থ স্থানে আছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিলাসবহুল পণ্যের কোম্পানি এলভিএমএইচের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বার্নার্ড আর্নল্ড। তার সম্পদের পরিমাণ ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৪৯ সালে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই ব্যবসায়ী শিল্পকর্মের একজন সংগ্রাহকও।  ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।

বার্নার্ড আর্নল্ড এর পরিবার বিভিন্ন ধরনের দাতব্য কাজ করে থাকেন; Image Credit: thesun.co.uk

আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর নটরডেম ক্যাথেড্রাল মেরামতের জন্য বার্নার্ড আর্নল্ড এর পরিবার ২০০ মিলিয়ন ইউরো দান করেন।

বার্নার্ড আর্নল্ড এর সংগ্রহে রয়েছে পাবলো পিকাসো, হেনরি মুর এবং অ্যান্ডি ওয়ারহোলের শিল্পকর্ম।

কার্লোস স্লিম

ফোর্বসের শীর্ষ ধনীদের তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মেক্সিকান ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, বিনিয়োগকারী এবং জনহিতৈষী কার্লোস স্লিম হেলু। ল্যাতিন আমেরিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিই তিনি। ১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তি তার কনগ্লোমারেট গ্রুপো ক্যার্সোর মাধ্যমে তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হন।

তার কনগ্লোমারেটে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, রিয়েল এস্টেট, গণমাধ্যম, জ্বালানী, সেবা, প্রযুক্তি, খুচরা, খেলাধুলা এবং আর্থিক সেবাসমূহ। তার নীট সম্পদ মেক্সিক্সোর মোট জাতীয় উৎপাদনের শতকরা ছয় শতাংশের সমান।

আমানসিও অর্তেগা

৬২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন আমানসিও অর্তেগা গাওনা। তিনি ইনডিটেক্স ফ্যাশন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক চেয়ারম্যান। এই ফ্যাশন গ্রুপটি জারা ক্লথিং এবং এক্সেসরিজ শপ চেইনের জন্য বিখ্যাত।

ল্যারি এলিসন

৬২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন ল্যারি এলিসন। ১৯৪৪ সালে জন্ম নেওয়া এলিসন ওরাকল কর্পোরেশনের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার উডসাইডে বাস করেন।

মার্ক জাকারবার্গ

৬২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে জাকারবার্গ এবং তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে ২০০৪ সালে এটিকে একটি ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে জাকারবার্গ বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে নির্বাচিত হন।

মাইকেল ব্লুমবার্গ

৫৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের তালিকার নবম স্থানে রয়েছেন ব্লুমবার্গের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ব্লুমবার্গ। ১৯৪২ সালে জন্ম নেওয়া আমেরিকান এই ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ, লেখক এবং জনহিতৈষী।

ল্যারি পেইজ

৫০.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ব্লুমবার্গ। ১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং ইন্টারনেট উদ্যোক্তা সের্গেই ব্রিন এর গুগল প্রতিষ্ঠা করেন।

উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই প্রযুক্তিবিদ। প্রযুক্তি এবং কম্পিউটারের দক্ষতাকে সৃজনশীলতা দিয়ে কাজে লাগিয়ে তারা অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

ফিচার ছবি- euronews.com

Written by Sadman Sakib

মাছের সাথে মুক্তা চাষ করে আয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করুন!

সফল ভ্রমণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আট শর্ত