বাংলাদেশের শীর্ষ দশ ধনী ব্যবসায়ী

বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র দেশ। তবু দেশটি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের কাছ থেকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সবকিছু ঠিকভাবে চললে ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে বাংলাদেশ। তবে তার জন্য চলতি উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যেই দেশ এগিয়ে চলছে সামনের দিকে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে দেশের মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাকিস্তান আমলে ধনী বাইশ পরিবারের কথা শোনা যেতো। স্বাধীন বাংলাদেশে আজকের সময়ে সেই পরিবার বা ব্যক্তির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। শিল্প-ব্যবসায় সম্প্রসারিত হচ্ছে, রপ্তানি বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার আয়। অধিক পরিমাণে শিল্প-কারখানা স্থাপিত হওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ছে। কর্মসন্সথান বাড়ায় মানুষের আয় বাড়ছে। ফলে জীবনযাত্রার পিছনে তাদের ব্যয়ও বাড়ছে। ব্যবসায বাণিজ্যের প্রসারের ফলে পুঁজিপতিদের পকেটে যাচ্ছে মুনাফা। ফলে তারা ধনী থেকে আরো ধনী হয়ে উঠছে।   

আজ আমরা দেশের শীর্ষ বিত্তশালী ব্যক্তিদের কথা জানবো। চলুন, তবে শুরু করা যাক।

মুসা বিন শমসের

১৯৪৫ সালে ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া মুসা বিন শমসেরকে জনশক্তি রপ্তানির জনক হিসেবে মনে করা হয়। তাকে ‘প্রিন্স মুসা’ নামেও ডাকা হয়। তার বাবা শমসের আলী মোল্লা ছিলেন স্থানীয় ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা।

অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে মুসা বিন শমসের পরিচিত; Image Credit: busy.org

তার নীট সম্পদের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বর্তমানে ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭০ ও ১৯৮০’র দশকে আন্তর্জাতিকভাবে অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।  

সালমান এফ রহমান

১৯৫১ সালে ঢাকায় জন্ম নেওয়া সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং সংসদ সদস্য।

সালমান এফ রহমান প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয়; Image Credit: clickittefaq.com

করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ সম্পন্ন করেন তিনি।  তার নীট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে তিনি বেশ কিছু বাণিজ্য সংস্থার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তিনি ‘দ্য ইন্ডেপেন্ডেন্ট’ পত্রিকা ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের মালিক। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার সম্পাদকীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আহমেদ আকবর সোবহান

১৯৫২ সালে পুরান ঢাকার ইসলামপুরে জন্ম নেওয়া আহমেদ আকবর সোবহান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান।

আহমেদ আকবর সোবহান বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা; Image Credit: ahmedakbarsobhan.net

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। তার নীট সম্পদের পরিমাণ এক দশমিক শূন্য সাত মার্কিন ডলার।

এম এ হাশেম

এম এ হাশেম পারটেক্স গ্রুপ এবং ইউসিবিএল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাকালীন কর্ণধার তিনি। এই গ্রুপের সতেরোটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার নীট সম্পদের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আজম জে চৌধুরী

মৌলভীবাজার জেলায় জন্ম নেওয়া আজম জে চৌধুরীর পুরো নাম আজম জাহাঙ্গীর চৌধুরী। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে নিজের উদ্যোগে সর্বপ্রথম বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবসায় শুরু করেন। আজম জে চৌধুরী প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান, মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টের সোল এজেন্ট এবং ইস্ট-কোস্ট গ্রুপের মালিক। তার নীট সম্পদের পরিমাণ প্রায় চারশ দশ মার্কিন ডলার।

রাগিব আলী

১৯৩৮ সালে সিলেটে জন্ম নেওয়া রাগীব আলী সমাজসেবক, শিল্পপতি এবং শিক্ষানুরাগী। চা ব্যবসায়ে সফল এই ব্যক্তি মালনীছড়া চা বাগানের বর্তমান স্বত্ত্বাধিকারী। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের  একজন উদ্যোক্তা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, সাউথ ইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়েরও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি  জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার নীট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় তিনশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এ কে শামসুদ্দিন খান

এ কে শামসুদ্দিন খান  রাজনীতিবিদ, আইন শাস্ত্রজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি আবুল কাশেম খানের পুত্র এবং বর্তমানে এ.কে.খান শিল্প গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান । তিনি প্রায় তিনশ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

ইকবাল আহমেদ

১৯৫৬ সালে জন্ম নেওয়া ইকবাল আহমেদ মাত্র পনেরো বছর বয়সে ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যান। তিনি পড়াশোনা করেছেন  ওয়েস্টমিনস্টারের সিটি কলেজে। চিংড়ি ব্যবসায় সাফল্যের পর তার দুটি কোম্পানি, সিমার্ক এবং ইবকোর শিপিং, সাথে হোটেল এবং রিয়েল এস্টেটও সাফল্য অর্জন করে। এ দুটি কোম্পানিই  যুক্তরাজ্যে তাকে ধনীদের একজনে পরিণত করে। সানডে টাইমস রিচ লিস্টে অবস্থান করা শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের একজন তিনি। তার নীট সম্পদের পরিমাণ ২৫০ থেকে ২৯০ মার্কিন ডলার।

মোয়াজ্জেম হোসেন

মোয়াজ্জেম হোসেন হোসাফ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, একই সাথে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালক। শুধু তাই নয়, তিনি হোসাফ মিটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সিটিলিংক অ্যাপার্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার নীট সম্পদের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা।

আকিজ পরিবার

দেশের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় আকিজ পরিবারের সদস্য সবচেয়ে বেশি। শেখ বশির উদ্দিন আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে টেক্সটাইল, তামাক, সিরামিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং, ঔষধ, ভোক্তাপণ্যসহ আরো অনেক খাত রয়েছে।

আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দিন; Image Credit: futurestartup.com

শেখ বশির উদ্দিন আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দিনের পুত্র। এই পরিবার দেশের সবচেয়ে ধনী পরিবার। আকিজ উদ্দিন নিজেই তার সব সম্পদ ছেলেদের মাঝে ভাগ করে দিয়ে গেছেন।  আকিজ গ্রুপের মূল অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন তার পাঁচ ছেলে। তারা হলেন শেখ বশির উদ্দিন, শেখ জামিল উদ্দিন, শেখ জসিম উদ্দিন, শেখ শামীম উদ্দিন ও শেখ নাসির উদ্দিন। আকিজ পরিবারের পাঁচ সদস্যের নিট সম্পদের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা, প্রত্যেকের গড় সম্পদ ১৪০ কোটি টাকা।

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে সাথে ধনীদের সংখ্যা বাড়াটাই স্বাভাবিক। তবে আয় বৈষম্য কমে এলে সেটি অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক হবে।

ফিচার ছবি- timandjulieharris.com

Written by Sadman Sakib

নতুন উদ্যোক্তাদের যে ভুলগুলো থেকে সাবধান হতে হবে

ছাপা ও প্রকাশনার ব্যবসা থেকে আয় করুন