ফুড ডেলিভারি ব্যবসায়ে সফল হবার উপায়

খাবার খেতে রেস্টুরেন্টে যাওয়া বা ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে খোদ রেস্টুরেন্টে ফোন করে অর্ডার দেবার দিন গত হয়েছে। দুনিয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একটি ক্লিকের সাহায্যেই এখন অনলাইনে খাবার অর্ডার করা সম্ভব। তবে বাজারে অনেক প্রতিযোগী হয়ে যাওয়ায় এ খাতে নতুন ব্যবসায় শুরু করা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ বটে। ফুড পান্ডা, হাংরি নাকি, পাঠাও ফুড অনলাইন ফুড সেগমেন্টে প্রভাব বিস্তাব করা শুরু করেছে। শুধু তা-ই নয়, সার্ভিসগুলো এই সেক্টরে বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে। ধারণা করা যাচ্ছে এই খাতে প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে। তাই, অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকাই হলো সফলতার পূর্বশর্ত।

অনলাইন ফুড ডেলিভারি সার্ভিস খাতে হাংরি নাকি বেশ জনপ্রিয়; Image source: hungrynaki.com  

ফুড অর্ডারিং অ্যাপগুলো গ্রাহকদের তাদের প্রিয় রেস্টুরেন্ট খোঁজা, তাদের খাবারের তালিকা ব্রাউজ করা এবং খাবারের অর্ডার করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। গ্রাহকরা যেকোনো সময় তাদের অর্ডার ট্র্যাক করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে অর্ডার বাতিল করতে পারে। অনলাইনে বা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে খাবারের মূল্য পরিশোধ করা যায়। এ ব্যবস্থা থেকে গ্রাহকরা সহজেই তাদের এলাকার খাবারের দোকান থেকে খাবার কিনতে পারেন।

অনেক স্টার্টআপই এখন এই মডেলটি ব্যবহার করছে কিন্তু সফলতার সংজ্ঞায়নই এক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিযোগী থেকে ব্যবসায়কে আলাদা করে দেয়।

এই ব্যবসায় উন্নতির ব্যাপারে কিছু পরামর্শ নিয়েই আলাপ করা যাক আজ।

সেবাদানের স্থান নির্বাচন

শহুরে ও আধা-শহুরে এলাকার স্থানীয় লোকজনের অংশগ্রহণই এই খাতের সম্ভাব্য মার্কেট সেগমেন্ট। তাই, বর্ধনশীল মার্কেটে নিজের শেয়ার বাড়ানোর জন্য উপযোগী স্থান নির্বাচনে গভীর বাজার গবেষণা চালানো জরুরি।

সম্ভাব্য গ্রাহকদের আগ্রহের ব্যাপারে জানা

গ্রাহকের বেইস সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল হতে হবে। সম্ভাব্য গ্রাহক সম্পর্কে তথ্যবহুল ধারণা নেওয়া জরুরি। তাদের খাবারের আগ্রহ ও রুচি সম্পর্কেও জানতে হবে ভালোভাবে।

এলাকায় রেস্টুরেন্টের সংখ্যা

সেবাদানের এলাকায় কতগুলো রেস্টুরেন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার সরবরাহ করতে চায় তার সংখ্যা খুঁজে বের করতে হবে। এর সাথে গ্রাহক যাতে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কুইজিন থেকে খাবার বাছাইয়ে বিস্তৃত বিকল্প পায় সে ব্যাপারটিও লক্ষ্য রাখতে হবে।  

ডেলিভারি স্টাফের প্রাপ্যতা

প্রতিযোগীদের থেকে এ ব্যবসায়ে এগিয়ে থাকতে হলে নিজস্ব ডেলিভারি টিম থাকা জরুরি যারা রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রাহকের কাছে খাবার খুব দ্রুততার  সাথে পৌঁছে দিতে পারবে। এ ব্যবসায়ে সাফল্যের মুখ দেখতে কার্যকরী খাবার ডেলিভারি চেইন ম্যানেজমেন্টে জোর দিতে হবে।

টার্গেট অডিয়েন্সের বয়স নির্ধারণও জরুরি বিষয়। খেয়াল রাখুন যাতে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের অধিকাংশের জন্মই একবিংশ শতাব্দীতে হয়। কেননা এ ব্যবসায়ের গ্রাহকের বয়সসীমা সাধারণত ৩৫ এর বেশি হয় না।

নানা ব্যবসার ধারণা থেকে একটি বা একাধিককে বেঁছে নেওয়া

ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা এড়াতে ব্যবসার মডেল দাঁড় করাতে হবে। অনেক ব্যবসায়িক ধারণাই আছে যেগুলোর সম্ভাবনা অনেক এবং পুরনোগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ব্যবসায়িক ধারণার মাঝে প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রাহক, রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রাহক, অনলাইন টেবিল বুকিং, তৈরি খাবার সরবরাহ ইত্যাদি প্রচলিত। সাফল্য লাভে এ সকল ধারণার বাইরে বা এ সকল ধারণার সংমিশ্রণে নতুন ধারণা তৈরি করে এ খাতে নামতে হবে।

প্রযুক্তির দিকে ভালোভাবে জোর দেওয়া

ব্যবসায় মডেল বেঁছে নেওয়ার পরের কাজটি হলো প্রযুক্তির প্যাটফর্ম বেঁছে নেওয়া। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে সবচেয়ে ভালো ফিচার ও সামর্থ্য নিয়ে প্রস্তুত হতে হবে।

ফিচার

অনলাইন ফুড ডেলিভারি ওয়েবসাইটের যে ফিচারগুলো থাকতে হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মাল্টি স্টোর, রেস্টুরেন্ট রিভিউ, মার্কেটিং মডিউল, ছাড়ের কুপন এবং পুরষ্কার পয়েন্ট, লোকেশন সার্চ, রেভিনিউ জেনারেশনের একাধিক চ্যানেল এবং আরো অনেক কিছু।

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

মোবাইল ফোনের আজকের এ দুনিয়ায় শুধু ওয়েবসাইট থাকলেই হবে না, সাথে একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি মোবাইল অ্যাপও থাকতে হবে।

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ফুড পান্ডা তাদের গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে; Image Source: foodpanda.com.bd

পেমেন্ট গেটওয়ে

ডিজিটালাইজেশনের পৃথিবীতে গ্রাহকরা খাবারের জন্য অনলাইনে অর্থ পরিশোধটাকেই পছন্দ করে বেশি। তাই, স্থানীয় ও বিশ্বের সেরা পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে স্টার্টআপে যুক্ত করাটা হবে ব্যতিক্রমী কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ।  

স্থানীয় পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর মাঝে রয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদ, নেক্সাস ডেবিট কার্ড ইত্যাদি।

অনলাইন  পেমেন্টের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের একটি বড় অংশের পছন্দ বিকাশ; Image Source: dhakatribune.com

কারিগরি সহায়তা

ফুড ডেলিভারি ডিজিটাল সলিউশন ডেভেলপড হওয়ার আগে এবং পরে টেকনোলজি পার্টনার যাতে সহায়তা দেয় সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে।  

বাজারজাতকরণে বিনিয়োগ করা

লাভের মুখ দেখতে চাইলে প্রতিযোগিতাপূর্ণ অনলাইন ফুড ডেলিভারির বাজারে বিজ্ঞাপন খাতে অর্থ খরচ করতেই হবে।  ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে যত বেশি বিনিয়োগ হবে, ব্যবসা তত বেশি পরিচিতি পাবে। অনলাইন ফুড মার্কেটপ্লেসে নিজেদের অবস্থান চাঙা করতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিকল্প নেই।

গুগলে ভালো র‍্যাংক

আজকের সময়ে গুগলে একটি ভালো র‍্যাংক বানানো খুব জরুরি। কার্যকরী সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন টেকনিক এবং গুগল অ্যাডসেন্স প্রয়োগের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

প্রি-লঞ্চিং মার্কেটিং এবং স্টার্টআপ সম্পর্কে লোকজনকে জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করা যেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালো মার্কেটিং হলে ব্র্যান্ড সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয় ও সাড়া পড়ে যায়।

‘মাউথ মার্কেটিং’ কাজে লাগানো

‘মাউথ মার্কেটিং’য়ের চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। স্থানীয় ফুড ব্লগারদের দিয়ে প্রচার করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। ‘রেফার এ ফ্রেন্ড’ অফার দিয়েও গ্রাহকের বেইজ বাড়ানো যেতে পারে। এতে গ্রাহকরা সার্ভিসের কথা তাদের বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে বলবে।

অনলাইন ফুড ডেলিভারি মার্কেটে প্রতিযোগিতা যেহেতু দিন দিন বেড়েই চলেছে, এই পরামর্শগুলো শুধু ব্যবসায় শুরু করতেই সাহায্য করবে তাই নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে কী কী কৌশল অবলম্বন করতে হবে সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে।

ফিচার ছবি: thailand-business-news.com

Written by Sadman Sakib

গুগল অ্যাডসেন্সের আদ্যোপান্ত