গুগল অ্যাডসেন্সের আদ্যোপান্ত

কীভাবে অনলাইনে অর্থ আয় করা সম্ভব-এমন প্রশ্নের উত্তরে অধিকাংশের উত্তরই হয়, ‘গুগল অ্যাডসেন্স।’ ইদানিং মার্কেটাররা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ আয় ও জীবিকা নির্বাহে গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করছে। এটি অর্থ আয়ের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে পরিণত হয়েছে। আজ আমরা জানবো গুগল অ্যাডসেন্স কী এবং এ থেকে অর্থ আয় সম্পর্কে।

গুগল অ্যাডসেন্স কী

ওয়েবসাইট মনিটাইজ করার একটি উপায় হলো গুগল অ্যাডসেন্স। ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের জন্য জায়গা বিক্রি করা যায় এবং গুগল বিজ্ঞাপনদাতার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।

গুগল অ্যাডসেন্স হচ্ছে ওয়েবসাইট মনিটাইজেশনের জনপ্রিয় উপায়; image source: rankxl.com

অ্যাডসেন্স বেশ শক্তিশালী কেননা ওয়েবসাইটের ভিজিটরের চাহিদামতো বিজ্ঞাপন পরিবেশন করতে গুগল তার ব্যবহারকারীদের অনুসন্ধান ইতিহাস কাজে লাগায়।

গুগল অ্যাডসেন্স যেভাবে কাজ করে

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের মালিকানাধীন অ্যাডসেন্স একটি বিজ্ঞাপনী নেটওয়ার্ক। এই প্ল্যাটফর্মেরই সরবরাহ করা জাভাস্ক্রিপ্ট ওয়েবসাইটে এম্বেড করতে হবে। এই স্ক্রিট কনটেন্টের সাথে প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন দেখাবে। ভিজিটররা ক্লিক করলেই সেই বিজ্ঞাপন থেকে আয় হবে। বিজ্ঞাপনগুলো গুগল অ্যাডওয়ার্ডস নামে অন্য একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে গুগল বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকে।

গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ করতে যা প্রয়োজন

গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ করতে যা দরকার তার সবকিছুই খুব সহজে পাওয়া যায়। কোনো কিছুই আয়ত্তের বাইরে নেই। যে ওয়েবসাইট দরকার তার জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং স্পেস বাংলাদেশের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কাজের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাওয়া সম্ভব। আর ওয়েবপেজ ডিজাইন এবং কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে প্রয়োজনীয় টুলস ( যেমন- ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা) বিনামূল্যেই সংগ্রহ করা যায়।

জুমলায় নতুন ওয়েবপেজ ডিজাইন ও কনটেন্ট ডেভেলপ করা যায়; image source: flickr.com

ওয়েবসাইটের কাজ শেষ হলে সময়মতো গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করতে একটি জি-মেইল অ্যাকাউন্ট লাগবে।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই জিমেইলে অ্যাকাউন্ট খোলা আবশ্যক; image source: iconfinder.com

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় বাড়ানোর কৌশল

গুগল অ্যাডসেন্সের নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ

ব্লগের ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না ভেবে অনেকেই গুগল অ্যাডসেন্সের নীতিমালা নিয়ে তেমন একটা ভাবেন না। গুগল অ্যাডসেন্সের গাইডলাইন অনুসরণ না করলে আয় বাড়ার পরিবর্তে যেকোনো সময় গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ব্যান হয়ে যেতে পারে। গুগল অ্যাডসেন্সের কয়েকটি বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরা হলো-

(ক) নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা যাবে না।

(খ) পেইড ট্র্যাফিক বা ক্লিকিং ব্যবহার করা যাবে না।

(গ) আইপি অ্যাড্রেস পরিবর্তন বা গোপন করে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা যাবে না।

(ঘ) অন্যকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে উৎসাহিত করা যাবে না।

সঠিক জায়গায় বিজ্ঞাপন কোড বসানো

গুগল অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপনের কোডগুলো এমন জায়গায় বসানো দরকার যাতে ভিজিটররা সহজেই বিজ্ঞাপনটি দেখতে পায়। আর এই পদ্ধতিতেই ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক হওয়ার বেশি সম্ভাবনা তৈরি হয়। গুগল অ্যাডসেন্স সবসময় কনটেন্ট সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন দেখায়, তাই পাঠক প্রয়োজন পড়তে পারে এমন জিনিসেরই বিজ্ঞাপন দেখতে পাবে। এক্ষেত্রে সে তার প্রয়োজনমতো বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে। তবে ব্লগের কনটেন্ট এরিয়ার ভেতরে বেশি বিজ্ঞাপন বসানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

ব্লগের লোডিং এর গতি বাড়ানো

দ্রুতগতির ব্লগ ভিজিটর ও বিজ্ঞাপন ক্লিক দুটিই বাড়াতে পারবে। ব্লগ ধীরগতির হলে ভিজিটর এবং পেজ ভিউ পাওয়া বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে। কারণ ব্লগ লোড নিতে বেশি সময় নিলে ভিজিটররা বিরক্ত বোধ করবে এবং ব্লগ থেকে বেরিয়ে যাবে।

অন্য বিজ্ঞাপন বাদ দেয়া

গুগল অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন থেকে আয় বাড়াতে চাইলে কম গুরুত্ব বহন করে এমন সব বিজ্ঞাপন অ্যাডসেন্স থেকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের লোড টাইম অনেকটাই বেড়ে যাবে।

আরেকটি কথা না বললেই নয়- গুগল অ্যাডসেন্স তাদের বিজ্ঞাপনের সাথে অন্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাটা ভালো চোখে দেখে না। গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার আগে অন্য কোনো বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে অবশ্যই সেটি সরাতে হবে। অন্যথায় কোনোভাবেই অ্যাডসেন্স টিম আবেদন অনুমোদন করবে না।

মৌলিক ও মানসম্মত কন্টেন্ট লেখা

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ভালো আয় করার প্রথম শর্ত হলো ভিজিটরের চাহিদা অনুযায়ী মৌলিক এবং মানসম্মত কন্টেন্ট নিয়মিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা। সে জন্য সাইটে কপি-পেস্ট কন্টেন্ট যেন না দেয়া হয় সেটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। মানসম্পন্ন কন্টেন্টে বেশি অর্থ দেয় এমন বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন আসে যারা ক্লিকের জন্য বেশি পরিমাণ কস্ট পার ক্লিক দিতে আগ্রহী থাকে। এ থেকে মানসম্পন্ন কনটেন্টের গুরুত্ব খুব সহজেই বোঝা যায়। সুতরাং অ্যাডসেন্স থেকে আয় বাড়াতে চাহিদা অনুযায়ী কপি-পেস্ট বর্জিত মানসম্পন্ন কন্টেন্ট প্রকাশ করা উচিৎ।

নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করা

ব্লগে প্রচুর নিত্যনতুন ভিজিটর পেতে অবশ্যই নিয়মিত নতুন আর্টিকেল প্রকাশ করতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অনুসরণ করে ব্লগে বা ওয়েবসাইটে ভালোমানের কনটেন্ট শেয়ার করলেই ভিজিটর ও আয় দুটোই  বাড়তে থাকবে। তবে এটি  মনে রাখা দরকারব বেশি কনটেন্ট শেয়ার করতে গিয়ে যেন কপি কনটেন্ট শেয়ার হয়ে না যায়। এতে করে আয় বাড়ার বদলে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট হারাতে হতে পারে।

অর্থ তোলার প্রক্রিয়া

অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে লগইন করে পেমেন্ট সেটিংস অপশনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত যোগ করুন। তথ্য দিতে ব্যাংকের সুইফট কোড প্রয়োজন হবে। যে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট সে ব্যাংকের সুইফট কোড জেনে নিতে হবে আগে।  

গুগল অ্যাডসেন্সে অর্থ গ্রহণে ব্যাংকের সুইফট কোড প্রয়োজন হয়; image source: bankinfosecurity.com

একশ ডলার বা তার বেশি হলে তা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। এছাড়া আপনি চেকের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। চেকের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে চাইলে প্রদত্ত ঠিকানায় অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ চেক পাঠাবে। ব্যাংকে সেই চেক জমা দিয়ে নগদ অর্থ গ্রহণ করা যাবে।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ভালো আয় ততক্ষণই সম্ভব যতক্ষণ নীতিমালা মেনে ভালো মানের কনটেন্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পরামর্শ ও কৌশলগুলোর প্রয়োগ ওয়েবসাইটে ঘটাতে হবে।

Written by Sadman Sakib

ট্রান্সক্রাইবিংয়ের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ

ফুড ডেলিভারি ব্যবসায়ে সফল হবার উপায়