অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে কীভাবে আয় করবেন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো পরোক্ষ আয়ের উৎস। এই উৎসটি বেশ প্রতিযোগিতামূলক। তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনলাইনে সহজে আয়ের সুযোগ এখনো বিদ্যমান। ধৈর্য্য নিয়ে সময় ও শ্রম দিলে এক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সম্ভব। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আপনাকে কৌশলীও হতে হবে। এর মাধ্যমে কীভাবে আয় করা সম্ভব তা নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যেভাবে কাজ করে

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট পণ্য বা ওয়েবসাইটের লিংক প্রমোট করাই হলো অ্যাফিলিয়েটরের কাজ। অ্যাফিলিয়েটরের লিংকে যখন কেউ ক্লিক করবে বা পণ্যটি কিনবে তখন প্রতিটি ক্লিক ও ক্রয়ের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার নির্দিষ্ট হারে কমিশন বা মুনাফা লাভ করবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে এভাবেই আয় হয়।

প্রস্তুতি নিন

অনেক হবু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারই পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট সময় নেন না। যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নেটওয়ার্ক বা প্রোগ্রামই খুঁজে পান সেখানেই নিবন্ধন করে ফেলেন। ফলে, একই সময়ে এতগুলো নেটওয়ার্ক ও সাইটে নিবন্ধন করে দিশেহারা হয়ে পড়েন।

সফল হতে প্রথমেই আপনাকে সফল হওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। এরপর কবে থেকে কাজ শুরু করবেন, কত টাকা বিনিয়োগ করবেন, দিনে কতক্ষণ কাজ করবেন, শেখার জন্য কত সময় ব্যয় করবেন, কোন ওয়েবসাইটগুলো অনুসরণ করবেন, এসকল বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করুন। মনে মনে পরিকল্পনা করলে ভুলে যেতে পারেন, পরিকল্পনাটি লিখিত হলে আপনার জন্যই ভালো।   

যে বিষয়গুলো জেনে নেওয়া ভালো

প্রথমেই আমাদের জানতে হবে নিশ (Niche) কী। খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে নিশ হচ্ছে ‘ইন্ডাস্ট্রি’। শপিংমলে গেলে আপনি যেমন দেখতে পান কাপড়ের দোকান, প্রসাধনীর দোকান, জুতার দোকান, ইন্টারনেটেও তেমনি রয়েছে কাপড়ের ওয়েবসাইট, খাবারের ওয়েবসাইট, জুতার ওয়েবসাইট ইত্যাদি। কাপড়ের দোকান যেমন ড্রেস ইন্ডাস্ট্রিতে পড়ে তেমনি কাপড়ের ওয়েবসাইট পড়ে ড্রেস নিশে। ড্রেস নিশের অধীনে ছেলেদের ড্রেস বা মেয়েদের ড্রেস হলো সাব নিশ। কসমেটিকস নিশের অধীনে বেবি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস আবার সাব নিশ।

বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে আপনার পছন্দের নিশে অনেক পণ্য পেয়ে যাবেন। গুগলে খুঁজলেই অনেক ভালো অ্যাফিলিয়েটেড মার্কেটপ্লেস পেয়ে যাবেন আপনি। বর্তমানে বাংলাদেশের ই-কমার্সভিত্তিক ওয়েবসাইট দারাজ ডটকম আপনাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার সুযোগ করে দিয়েছে। কীভাবে দারাজের অ্যাফিলিয়েট পার্টনার হবেন সেটি দেখুন এখানে

এছাড়াও অনেক ই-কমার্সভিত্তিক সাইটেই এ সুযোগ রয়েছে।  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য ক্লিকব্যাংক ডটকম খুব ভালো একটি সাইট। এই মার্কেটপ্লেসটিতে আপনি আপনার পছন্দমতো পণ্য পেতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে ক্লিকব্যাংক ডট কমে কীভাবে কাজ করবেন তা এই ভিডিওতে দেখতে পারেন। এছাড়া আপনি জেভিযু ডট কম বা রাকুটেন মার্কেটিং ডট কম এ কাজ শুরু করতে পারেন।

নিশের পণ্যগুলো আপনি দুভাবে মার্কেটিং করে কমিশন আয় করতে পারেন। প্রথমটি হচ্ছে সরাসরি মার্কেটিং, অর্থাৎ গ্রাহকদের সরাসরি পণ্যের সেলস পেইজে পাঠিয়ে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে একটি সেলস প্যানেল করে গ্রাহকদের যোগাযোগের তথ্য নিয়ে তাদেরকে পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে জানিয়ে তারপর পণ্যের সেলস পেইজে পাঠিয়ে।

নিশ নির্বাচন করুন

মার্কেটিং এর জন্য এমন নিশ নির্বাচন করা উচিৎ যে নিশের পণ্য কেনার ব্যাপারে ক্রেতাদের মাঝে আগ্রহ আছে বা যে নিশের পণ্যের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম রয়েছে। যথাযথ নিশ নির্বাচন করতে না পারলে কাজ শুরুর আগেই আপনার সফলতার সম্ভাবনা কমে যাবে। আপনার ভালো লাগা বা দক্ষতাও হতে পারে আপনার নিশ নির্বাচনের ভিত্তি। যদি পড়তে ভালো লাগে বা বইপত্র সম্পর্কে ভালো খোঁজখবর রাখেন, তাহলে বই বা পত্রিকার অ্যাফিলিয়েট করলে আপনার জন্য সহজ হবে।   

অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক বা প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষণা করুন

অনেক ধরনের অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কে যে কাজের সুযোগ রয়েছে সেটি আগেই জানা হয়েছে। কাজ শুরুর আগেই আপনার কিছু জিনিস জেনে নেওয়া ভালো, যেমন- কোন নেটওয়ার্কে খুব সহজেই কাজের অনুমতি মেলে, কোন ধরনের পণ্য সম্পর্কে আপনি গুছিয়ে ভালোভাবে বিবরণ লিখতে পারেন, কোন পণ্যগুলোর বিক্রয় ও কমিশন বেশি, যে নেটওয়ার্কে আপনি কাজ করতে চাচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে সেই নেটওয়ার্কে কাজ করতে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় কিনা, পেমেন্ট বাংলাদেশ থেকে তোলা যায় কিনা, কত শতাংশ হারে কমিশন দেয়, সর্বনিম্ন পেমেন্টের পরিমাণ কত, কত দিন পর পর পেমেন্ট তোলা সম্ভব ইত্যাদি। একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো, বাংলাদেশ থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে পেওনিয়ার বেশ সুবিধাজনক।  

কমিশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ খুব সহজেই পেওনিয়ারের মাধ্যমে গ্রহণ করা সম্ভব; image source: payoneer.com

অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট ও লিংক তৈরি করুন

কোনো অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কে কাজ শুরু করতে হলে সেই নেটওয়ার্কের অনুমতিদান সাপেক্ষে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। সব নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয় না। এক্ষেত্রে দেশের বাইরে অবস্থান করছে এমন পরিচিত কারো মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে নিতে পারেন। প্রথমদিকে সব নেটওয়ার্কে আপনি কাজের অনুমতি না-ও পেতে পারেন। যেকোনো অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কে যুক্ত হবার আগে তাদের শর্তগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিৎ।

একেক নেটওয়ার্কের শর্ত একেক রকমের। অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়ার পর পণ্যগুলোর জন্য আলাদা আলাদা অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরি করতে হবে। এই লিংকগুলো আপনার কনটেন্টে যুক্ত করতে হবে। প্রমোট করা এসব লিংকে গিয়ে ক্রেতা যদি ঐ পণ্য কেনেন, তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার কমিশন পাবে। প্রমোট করা লিংকে গিয়ে ক্রেতা ঐ পণ্য না কিনে অন্য কোনো পণ্য কেনেন বা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর আরো কেনাকাটা করেন তাহলেও সেখান থেকে মার্কেটার কমিশন পেতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক থেকে তৈরি করা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে দেখা যাবে প্রমোট করা লিংকটি ক্লিক করে কতজন ভিজিটর গিয়েছেন, কত বিক্রি হয়েছে এবং কত কমিশন জমা হয়েছে। কমিশন তুলনামূলকভাবে কম হলেও অনেকেই অ্যামাজন এ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পছন্দ করেন, কেননা এটিতে বিক্রি হয় অনেক বেশি।

ওয়েবসাইট তৈরি করুন

ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন ওয়েবসাইটটি যেন আকর্ষণীয় ও পেশাদারী দেখায়। এমন রেসপন্সিভ ওয়েবসাইট তৈরি করুন যাতে যেকোনো ডিভাইজ থেকে সহজে ভিজিট করা সম্ভব। অনেকেই ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, কারণ ওয়ার্ডপ্রেসে কাজ চালিয়ে নেওয়া সহজ।

চমৎকার কনটেন্ট তৈরি করুন

কনটেন্ট তৈরি করা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ক্রেতাদের মাঝে আস্থা তৈরি করতে ধারাবাহিকভাবে স্বতন্ত্র ও উন্নত কনটেন্ট তৈরি করুন। অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরির পর সেটি ছবি ও টেক্সট দিয়ে যুক্ত করুন। পণ্যের রিভিউয়ের ক্ষেত্রে সততা অবলম্বন প্রয়োজন। পণ্যের ভালো দিকগুলোর পাশাপাশি খারাপ দিকগুলো উল্লেখ করলে কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। অন্যান্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা একই পণ্যের রিভিউ কীভাবে করছে সেটি যাচাই করে আরো সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করুন।

কনটেন্টের প্রমোশন করুন

ওয়েবসাইট তৈরির পর শুরুতেই তা গুগল সার্চে র‍্যাংক করানো সম্ভব নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন উপায়েই কনটেন্টের প্রমোশন করতে পারেন আপনি, যেমন- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা, গুগল বা অন্যান্য মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া, ই-মেইল মার্কেটিং করা, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা ইত্যাদি।

অনলাইনের আয়ের ক্ষেত্র হিসেবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এখন বেশ জনপ্রিয়। খুব কম পরিশ্রমে বিনা প্রশিক্ষণে ঘরে বসে এমন আয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখন অনেকেই জীবিকার্জন করছেন।

Written by Sadman Sakib

চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সহজ উপায়

যে সকল গুণাবলী থাকলে একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মী হয়ে উঠবেন