ক্যাটারিং ব্যবসায় সফল হবার উপায়

ক্যাট্যারিং ব্যবসায়ে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।  ক্যাটারিং ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। তরুণ উদ্যোক্তাদের এই ব্যবসায়ে দ্রুত সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপলক্ষটা বিয়ে বা জন্মদিন হলে আপ্যায়নের বিষয়টি সামনে চলে আসে।  খাবারের মেন্যুতে যাই থাকুক না কেন, রান্না হতে হবে খুবই মানসম্মত।  তাই ভালোমানের বাবুর্চি বা রাঁধুনির দরকার হয়।

বিয়ের প্রস্তুতিও সময়ের সাথে বদলেছে। এখন আর বাড়ির পাশে প্যান্ডেল টাঙিয়ে রান্না করা বা খাওয়া-দাওয়া করা হয় না।  সকল আয়োজন কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন সেন্টারেই সম্পন্ন করা হয়।

দেশ ক্যাটারিং সুনামের সাথে বাংলাদেশে ক্যাটারিং ব্যবসা পরিচালনা করছে; Image Source: deshcatering.com

কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন সেন্টারে নির্দিষ্ট বাবুর্চি থাকলেও অনেকেই পছন্দের বাবুর্চি দিয়ে রান্না করাতে চান। অনেকেই আবার রান্নাবান্না আর খাবার পরিবেশনের পুরো দায়িত্ব ক্যাটারিংকে দিয়ে চিন্তাহীন থাকতে চান। প্যাকেজ খাবার জনপ্রতি প্লেট হিসেবে ঠিক করা হয়। অতিথি সংখ্যা এবং বাজার দরের ওপর মেন্যুর মূল্য নির্ধারিত হবে।

ক্যাটারিং বা ব্যবসায়ে খাবার রান্না ও খাবার বণ্টন করার জায়গার প্রয়োজন হয়। সাধারণত অফিস এলাকার কাছাকাছি বা কমিউনিটি সেন্টার, হল বা  ক্লাবের আশেপাশে রান্নার জন্য ছোটো একটি বাসা ভাড়া নিলে ভালো হয়।

ক্যাটারিং ব্যবসায়ে ভালো অবস্থান তৈরি করতে ভালো মানের ভিন্ন স্বাদের খাবার সরবরাহ করতে হবে; Image Source: cookifi.com

নিজের বাড়িতে রান্না করেও তা সরবরাহ করা সম্ভব। ক্যাটারিং ব্যবসা হলো মূলত খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহ করা। এ ব্যবসার মাধ্যমে নারীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। বাড়িতে বসেই এই ব্যবসায় চালানো যায়।

বাজার সম্ভাবনা

ভারতেও ক্যাটারিং ব্যবসায়ের উদাহরণ প্রচুর; Image Source: kayalunavagam.com

ক্যাটারিং ব্যবসায়ের বাজার নির্ভর করে এলাকার ওপর। ক্যাটারিং ব্যবসায় থানা বা জেলা শহরে সাধারণত প্রতিদিন আশি থেকে একশ জনকে খাবার সরবরাহ করতে পারবে এবং বড় জেলা বা বিভাগীয় শহরে প্রতিদিন একশ থেকে দুইশ জনকে খাবার সরবরাহ করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করেও আয় করা সম্ভব। বিভিন্ন ফাস্টফুড এর দোকান ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বিস্কুট, কেক, সিঙ্গারা, রোল, সমুচা সরবরাহ করে আয় বাড়ানো যায়।

প্রয়োজনীয় মূলধন

ব্যবসায় শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় স্থায়ী উপকরণ কিনতে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার প্রয়োজন হবে। তাছাড়া প্রতিদিন দেড়শজন মানুষের খাবার সরবরাহ করতে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকার প্রয়োজন হবে।

দোকানঘর, বিদ্যুৎ ভাড়া ইত্যাদির জন্য আলাদা অর্থের প্রয়োজন হবে। ব্যক্তিগত পুঁজি না থাকলে আত্মীয়-স্বজন, ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) এর কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করা যেতে পারে। সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক ও এনজিও শর্তসাপেক্ষে ঋণ সরবরাহ করে।

আয় ও লাভের হিসাব

মোট খরচ অনুমান করা যেতে পারে।  দেড়শজন মানুষের খাবারের জন্য প্রতিদিনের বাজার খরচ প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। স্থায়ী উপকরণের অবচয় বাবদ খরচ দশ থেকে পনেরো টাকা। দুইজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি একশ থেকে একশ বিশ টাকা। পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খরচ দেড়শ থেকে দুইশ টাকা। যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ দেড়শ থেকে একশ আশি টাকা। মোট খরচ প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা।  

প্রতি প্যাকেট খাবার চল্লিশ থেকে পয়তাল্লিশ টাকায় বিক্রয় করলে দেড়শ প্যাকেট বিক্রয় করে আয় ৬০০০-৬৭৫০ টাকা।  ১৫০ প্যাকেট খাবার তৈরিতে খরচ প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা। লাভ দেড় হাজার টাকা থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। বিনিয়োগ ও বিক্রয়ের ভিত্তিতে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম ওঠানামা করে। তাই এক্ষেত্রে হিসাবটি থেকে শুধু ধারণা নেওয়া যেতে পারে।


দরকারী উপকরণ ও এর পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান

দেড়শ জন  পাঁচটি হাড়ি/পাতিল প্রয়োজন। তৈজসপত্রের দোকানে এসবের মূল্য পড়বে পাঁচশ থেকে পাঁচশ পঞ্চাশ টাকা। তৈজসপত্রের দোকান থেকে দুইটি কড়াই কিনতে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা লাগবে। দুইটি গামলা পাওয়া যাবে একশ থেকে একশ বিশ টাকায়। তিনটি  চামচ তৈজসপত্রের দোকানে পাওয়া যাবে দেড়শ থেকে একশ আশি টাকায়।

দুইটি বালতি একশ বিশ থেকে একশ ত্রিশ টাকায় পাওয়া যাবে।  দুইটি বটি হার্ডওয়ারের দোকানে দুইশ থেকে দুইশ বিশ টাকায় পাওয়া যাবে। হার্ডওয়ারের দোকান থেকেই দুইটি ছুরি কেনা যাবে একশ থেকে একশ বিশ টাকায়। দুইটি চুলা কেনা যাবে ঐ একশ থেকে একশ বিশ টাকাতেই।  একশ থেকে দেড়শটি বক্স কিনতে খরচ হবে আটশ থেকে এক হাজার টাকা। তৈজসপত্রের দোকান থেকে দুইটি ঝুড়ি দুইশ থেকে দুইশ বিশ টাকায় কেনা যাবে।

মুদি দোকানে দশ কেজি চালের দাম হবে তিনশ পঞ্চাশ থেকে চারশো টাকা। ২ কেজি ডালের দাম দুইশ বিশ থেকে ত্রিশ টাকা। আড়াই কেজি তেলের দাম পড়বে দুইশ থেকে দুইশ দশ টাকা।  অন্যান্য কাঁচামালের দাম বাজারভেদে ওঠানামা করবে।

ব্যবসায় পরিচালনার পদ্ধতি

ক্যাটারিং সার্ভিস ব্যবসায়ীকে যোগাযোগ রাখতে হবে স্থানীয় অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে। খাবারের মান ভালো এবং সঠিক দাম রাখা হলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের খাবারের অর্ডার পাওয়া সহজে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন খাবার সরবরাহ করতে হবে। খারাপ ও বাসী খাদ্য কখনো সরবরাহ করা যাবে না।  উন্নতমানের মশলা ব্যবহার করতে হবে। ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক ভালো রান্না করতে হবে।  দোকানে খাবার অর্ডার করতে আসা মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। ভালো ব্যবহার পেলে অর্ডারকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বারবার একই জায়গা থেকেই খাবার অর্ডার করবে।

ক্যাটারিং ব্যবসায়ে গ্রাহকের চাহিদার কথা সবার আগে ভাবতে হবে; Image Source: youtube.com

খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রান্না করার পাত্রগুলো ভালো করে পরিস্কার করে নিতে হবে। রান্নার আগে মাছ, মাংস, চাল ডাল, সবজি ভালোভাবে পরিস্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। সবসময় ফুটানো পানি সরবরাহ করতে হবে। রান্নার স্থান ও তার আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। গামলা, বড় হাড়ি, পাতিল কয়টা করে আছে তার একটা তালিকা তৈরি করে রাখলে ভালো হয়। প্লেট, গ্লাস, জগ, বাটি ইত্যাদি খাবার পরিবেশনের দ্রব্যাদি কয়টি করে আছে তার একটি তালিকা তৈরি করা থাকলে ক্রেতাদের চাহিদা বা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রব্যাদি ভাড়া দেওয়ায় সুবিধা হবে এবং পরে হিসাব মেলানো যাবে।

অল্প পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসায় শুরু করে খুব দ্রুতই লাভের মুখ দেখা যায়। রান্না করায় আগ্রহী যে কোনো নারী বা পুরুষ খাদ্য সরবরাহের ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

Written by Sadman Sakib

সফল ভ্রমণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আট শর্ত

আইটি সাপোর্ট ব্যবসা থেকে আয়