ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের মাধ্যমে অর্থ আয়

অনলাইনে অন্য কারোর কাজ করে দেওয়াই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ। ঘরে বসেই এই কাজটি করা যায় বলে েটি বেশ সুবিধাজনক। ফ্রিল্যান্স রাইটিং এবং ব্লগিং এর মতই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করা যায়। কেউ যখন নিজে সবটুকু কাজ একা করতে না পারে তখনই সে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্যান্ট নিয়োগ করে।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজগুলো হলো-  ক) ব্লগ পোস্টগুলোর শিডিউল তৈরি করা, খ) ব্লগের ছবি সম্পাদনা করা, গ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা, ঘ) ই-মেইল লেখা ও উত্তর দেওয়া, ঙ) ব্লগ পোস্টগুলোর ওপর গবেষণা চালানো এবং চ) ব্লগারদের জন্য অনলাইনে করে দেওয়া আরো যেকোনো কিছু।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যাটদের সাথে কাজ করতে কয়েকটি বিষয় ক্লায়েন্টকে মাথায় রাখতে হয়; image source: practiceofthepractice.com

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স থেকে আয়

অনলাইন ঘেঁটে দেখা যায়, উত্তর আমেরিকার ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের আয় প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ ডলার। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স থেকে কত আয় করা যাবে তা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও কাজের ক্ষেত্রের ওপর। কাজে যত বেশি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা হবে তত বেশি আয় আসবে।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স হিসেবে কাজ থেকে ঘণ্টায় কেউ ১৫ ডলারও আয় করে, আবার কেউ ১০০ ডলারও আয় করে। কত আয় হবে তা নির্ভর করে কাজটি কতটা ভালো করে করছেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট আপনার কাজ কতটা মূল্যায়ন করছে তার ওপর। যত দ্রুত কাজে লেগে পড়া যাবে তত দ্রুত আয় আসা শুরু হবে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সে।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সে যেসব দক্ষতা থাকা দরকার

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাছ থেকে ক্লায়েন্টরা যেসব বিষয় আশা করে সেগুলো হলো-

(ক) যোগাযোগের দক্ষতা বেশ ভালো হবে।

(খ) গুছিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে জানতে হবে।

(গ) নিজে কাজে আগ্রহী হবে।

(ঘ) এবং অবশ্যই বিশ্বস্ত হবে।

একটি কম্পিউটার থাকতে হবে, সেটা ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ যা-ই হোক। ইন্টারনেট সংযোগও থাকা চাই। জবড়জঙ্গ প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন থাকতে হবে এমনটা ভাবার কারণ নেই। অধিকাংশ ক্লায়েন্টই কাজ করে দেওয়ার জন্য ক্লাউন্ডভিত্তিক টুল এবং সফটওয়্যার প্রোগ্রামে অ্যাক্সেস দিয়ে দেবে।

যেভাবে ক্লায়েন্ট খুঁজতে হয়

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সে সফলতা পেতে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি রয়েছে। এগুলোর কয়েকটি হলো-

(ক) সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করা

(খ) ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক তৈরি করা

(গ)  আশেপাশের পরিচিত মানুষদেরকে কাজে লাগানো

ভালো মানের ক্লায়েন্ট খোঁজা এবং তাদের আকৃষ্ট করার পদ্ধতি গত দশকে খুব বেশি বদলায়নি কিন্তু তাদেরকে জানা, তাদের জন্য কোনটা ভালো সেটি বোঝা এবং সঠিক উপায়ে তাদের খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের সুবিধা

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজ করার সাধারণ সুবিধাগুলো হলোঃ

১। শিডিউলমতো যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যায়। এ ধরনের কাজে চাকরিজীবীদের মতো ঘড়ি ধরে অফিসে যেতে হয় না।

২। এ কাজে ক্ষেত্রে স্বাধীনতা আছে। ইচ্ছা হোক বা না হোক, অফিসে যেতেই হবে সময়মতো। এ কাজে তেমনটি নয়।

৩। অবারিত আয়ের সুযোগ রয়েছে এ কাজে। কাজের জন্য কত অর্থ দিতে হবে তা অনেক সময়েই কাজ যিনি করছেন তার চাওয়ার ওপর নির্ভর করে। অভিজ্ঞতা যত বেশি কাজের দর তত বেশি। 

যেভাবে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হবেন

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হওয়ার দুটি পথ রয়েছে-

(ক) দ্রুত বা ভালো না হোক, করার মতো ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্সের কাজগুলো প্রথমে নিজে করা। অথবা,

(খ) প্রশিক্ষণ নিন যার মাধ্যমে আপনি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের ব্যবসা শুরু করে সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কামাতে পারে।

নিজেই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হওয়া

নিজে নিজেই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজ শুরু করতে চাইলে-

(ক) একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন

(খ) ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করুন

(গ) সেবার বিজ্ঞাপন দিন (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করুন এবং ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন যেখানে আপনি কী করছেন সেই বিষয়ে কথা বলতে পারবেন)

(ঘ) ফ্রিল্যান্সার ডট কম এবং টাস্কর‍্যাবিট ডট কমের মতো সাইটে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজের জন্য আবেদন করুন।

ফ্রিল্যান্সার ডট কমের মতো সাইটগুলো ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টদের কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে; image source: freelancer.com

প্রশিক্ষণ নিয়ে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজ করা

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজ শিখলে যা জানা যায়-

(ক) ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স কী

(খ) কী কাজ করে দিতে হবে তা কিভাবে বুঝতে হবে

(গ) কাজের প্যাকেজ

(ঘ) ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টন্সের প্রকারভেদ

(ঙ) চালান তৈরি করা

(চ) ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সে কীভাবে সময়কে কাজে লাগাতে হবে

(ছ) কোথায় ক্লায়েন্ট পাওয়া সম্ভব

(জ) ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত হওয়া

(ঝ) এ কাজের ঝুঁকিগুলো

(ঞ) কীভাবে জব বোর্ড ব্যবহার করা যায়

(ট) নিচিং

(ঠ) ক্লায়েন্টদের এড়ানোর কৌশল

যে কোম্পানিগুলো থেকে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজ পাওয়া যায়

বোল্ডলি ডট কম

এটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ক্লায়েন্ট ও অ্যাসিস্ট্যান্টদের নিয়ে কাজ করা প্রিমিয়াম ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট কোম্পানি। গ্লাসডোর ডট কমে এর রেটিং ৫/৫ । এটি থেকে অ্যাসিস্ট্যান্টরা ঘণ্টায় ১৬ থেকে ১৯ ডলার আয় করতে পারে।

প্রিমিয়াম ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোভাইডিং হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বোল্ডি ডট কম; image source: boldly.com

বিলে

এই কোম্পানিটি ইএহেল্প নামে পরিচিত ছিলো। দূরবর্তী প্রশাসনিক সহায়তা থেকে শুরু করে হিসাবরক্ষণ, কপিরাইটিং এবং ওয়েব সহায়তা সেবা প্রদান করে এটি। গ্লাসডোর ডট কমে এর রেটিং ৪.৩/৫ । এটি থেকে অ্যাসিস্ট্যান্টরা ঘণ্টায় ১৩ থেকে ১৯ ডলার আয় করতে পারে।

কাজ পাওয়ার আরো উপায়

আপওয়ার্ক

আপওয়ার্কে আগ্রহ নিয়ে কাজ খুঁজে নিজের রেটটি দিতে হবে। আপওয়ার্কে এবং কোম্পানিগুলোতে কাজ প্রমোটের ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থাকাটা সুবিধা দেবে।

আপওয়ার্কেও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজ খুঁজে পাওয়া সম্ভব; image source: upwork.com

ফেসবুক গ্রুপ

নেটওয়ার্ক তৈরি, একই মানসিকতার কমিউনিটির সদস্য হওয়া এবং কাজ বা ব্যবসায়ের পথ খুঁজে পেতে ফেসবুকের গ্রুপ অতুলনীয়।

একটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজ খুব সহজে করা যায়।  এতে বাঁধাধরা ঘণ্টাচুক্তি না থাকায় এবং আয় প্রবাহ ভালো হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।  

Written by Sadman Sakib

আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ের আদ্যোপান্ত

অনলাইন ফিটনেস কোচিংয়ে সফল হবেন কীভাবে?