রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত ৫টি আয়ের ক্ষেত্র

শহরগুলোতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে আবাসন সংকট চরমে পৌঁছাচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বর্তমানে আকাশচুম্বী। কিন্তু এর থেকেও বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে জমির মূল্য। ফলে আবাসনের সমস্যা শহরবাসীদের জন্য আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমন অবস্থায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নাগরিক জীবনের আবাসন সমস্যা নিরসনে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখছে। জমি কিনে বাড়ি করার সামর্থ্য যাদের নেই এই, রিয়েল এস্টেট ব্যবসার কল্যাণে তারা সরাসরি ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

এরফলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার প্রসারও বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এই ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশ আসে এই ক্ষেত্র থেকেই। সুতরাং ব্যবসা ক্ষেত্রটি কতোটা লাভজনক এটা বুঝতে এতটুকুও অসুবিধা হয় না।

অনেকেরই ধারণা রিয়েল এস্টেট এজেন্সি খুলে সরাসরি নির্মাণ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকাই বুঝি এই ক্ষেত্র থেকে উপার্জনের একমাত্র উপায়। কিন্তু না। ব্যবসা ক্ষেত্রটি অনেক বিশাল এবং এর সাথে অন্যান্য অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও জড়িত। সেগুলো নিয়ে কাজ করে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে বর্তমানে এই রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত ব্যবসা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাদের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক উপায় উদ্ভাবন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত তেমনই কয়েকটি উপার্জন ক্ষেত্র নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা। আসুন দেখে নেয়া যাক রিয়েল এস্টেট ব্যবসা কেন্দ্রিক কয়েকটি উপার্জনের উপায়।

রিয়েল এস্টেট নিয়ে লেখালেখির কাজও অর্থ এনে দিতে পারে; image source: easyagentpro.com

ব্লগিং

রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত বিষয়াবলি নিয়ে লেখালেখি করে যেকেউ আয় করতে পারবে। একটি ব্লগ সাইট খুলে সেখানে রিয়েল এস্টেট প্রফেশনাল এবং ক্রেতাদের জন্য আপনি লেখালেখি করতে পারেন। লেখালেখির বিষয় হিসেবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার বর্তমান অবস্থা, জমির মূল্য, ফ্ল্যাটের মূল্য, ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন পরামর্শ ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন। এছাড়া এমনভাবে নিজের ব্লগ সাইটটিকে গড়ে তোলা যেতে পারে যাতে রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত সকল ইনফরমেশন সেখানে পাওয়া যায়।

তবে এজন্য অবশ্যই আপনাকে এই ব্যবসায় এক্সপার্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে সকল তথ্যই আমাদের হাতের কাছে। সেগুলোর সাহায্যে এবং এই ব্যবসায় দক্ষ কারও পরামর্শে আপনি নিজেকে রিয়েল এস্টেট ব্লগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

রিয়েল এস্টেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি হলেন একজন স্থপতি; image source: thebalancecareers.com

স্থপতি

রিয়েল এস্টেটে স্থপতির কাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোন একটি ভবন বা স্থাপনার নকশা প্রণয়নের দায়িত্বে থাকেন তিনি। তার দেয়া নকশা অনুসারেই গড়ে ওঠে সেগুলো। একারণে তাদের পারিশ্রমিকও অনেক। আপনি যদি ভবন বা স্থাপনা নকশা করার জন্য নিজেকে দক্ষ মনে করেন তাহলে আপনিও স্থপতি হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে যেহেতু দায়িত্বটি অনেক চ্যালেঞ্জিং তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া এতে যোগ দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

দেশের যেকোন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় পড়ালেখা সম্পন্ন করে আপনি স্থপতি হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারবেন।

রিয়েল এস্টেট ফটোগ্রাফার

রিয়েল এস্টেট থেকে আয় করার জন্য আপনাকে যে কেবল নির্মাণ, নকশা তৈরির সাথে যুক্ত থাকতে হবে এমনটা নয়। আপনার যদি ছবি তোলার দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে রিয়েল এস্টেট ফটোগ্রাফি করেও আপনি আয় করতে পারবেন। রিয়েল এস্টেট ফটোগ্রাফার হিসেবে আপনার দায়িত্ব হবে বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রোপার্টির ছবি তোলা। ছবি তুলে সেগুলা অনলাইনে প্রচার করে প্রোপার্টি বিক্রেতাদের সহায়তা করা।

সৃজনশীল কাজে আগ্রহী হলে হতে পারেন রিয়েল এস্টেট ফটোগ্রাফার; image source: levelexposure.com

রিয়েল এস্টেট ফটোগ্রাফার হিসেবে আপনার কোন নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা নেই। যত বেশি ভবনের ছবি আপনাকে তুলতে হবে, সময় তত বেশি লাগবে আপনার। অনেক রিয়েল এস্টেট ফটোগ্রাফার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় খুব অল্প সময়েই ছবি তোলার কাজ শেষ করতে পারে। যেহেতু ছবি তোলার কাজটি বাস্তব লোকেশনেই সম্পন্ন করতে হয়, তাই এক্ষেত্রে আপনার পরিশ্রম একটু বেশিই হবে। কিন্তু ছবি তোলা যদি আপনার ভালোবাসার কাজ হয়, তাহলে এই ব্যবসাটি আপনার আয়ের সুযোগও অনেক বাড়িয়ে দেবে।

রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা

রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ক্রমবর্ধমান একটি ব্যবসা। রিয়েল এস্টেটের ক্রেতা যত বাড়ছে রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনার চাহিদাও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে তাই রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে। চ্যালেঞ্জিং এবং উপার্জনের ভাল সুযোগ থাকায় এসব উদ্যোক্তারা এইদিকে ঝুঁকছেন।

রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা বলতে মূলত ক্লায়েন্টের ক্রয় করা রিয়েল এস্টেট রক্ষণাবেক্ষণ করাকেই বোঝায়। এই রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানটি করে থাকে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে। রিয়েল এস্টেটের আকার এবং রক্ষণাবেক্ষণের ধরনের ওপর কমিশন নির্ধারিত হয়ে থাকে। আপনিও চাইলে এমন একটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান খুলে খুব সহজেই টাকা আয় করতে পারবেন।

ইন্টেরিয়র ডিজাইন

ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত আরো একটি অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্র হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ধারণা জনপ্রিয়ও হচ্ছে। সাধারণত কোন প্রতিষ্ঠানের অফিসের ক্ষেত্রেই এতকাল ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা হত। কিন্তু বর্তমানে বাসাবাড়িতেও অনেকে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার দিয়ে ডিজাইন করিয়ে নিচ্ছেন।

সৃজনশীলতা ভিত্তিক হওয়ায় এই কাজে পারিশ্রমিকও বেশি। একারণে তরুণদের মাঝে এটার জনপ্রিয়তা রয়েছে। স্থাপত্যবিদ্যার মত এখানেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা জরুরি, তবে বাধ্যতামূলক নয়। আপনার সৃষ্টিশীলতা দিয়েও আপনি প্রাতিষ্ঠনিক শিক্ষার অভাবটা পূরণ করে নিতে পারবেন। যেহেতু নান্দনিকতাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং এর শেষ কথা, তাই অনেকে বাঁধা ধরা নিয়মে এটিকে ফেলতে রাজি নন।

ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন; image source: 417homemag.com

এই আলোচনা থেকে বুঝতেই পারছেন, রিয়েল এস্টেট থেকে উপার্জনের জন্য আপনাকে নির্মাণেই নামতে হবে এমন কোন কথা নেই। এমন অনেক সৃষ্টিশীল কাজ রয়েছে যেগুলো আপনাকে উপার্জনে সহায়তা করবে। তাই আপনি যদি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার উত্থানকে কাজে লাগিয়ে নিজের আয় করার সুযোগ তৈরি করতে চান তাহলে নেমে পড়ুন কাজে। বেছে নিন আপনার পছন্দের ক্ষেত্রটি।        

Written by Sizan Ahmed

বাংলাদেশে দশটি খণ্ডকালীন চাকরি

বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার হাল হকিকত