সহজ পাঁচটি বিজনেস আইডিয়া

সবাই দু’হাতে বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে চায়। মনের ভেতর ধনী হবার তীব্র ইচ্ছা পোষণ করে। বেঁচে থাকতে হলে চাই অর্থ। অর্থ ছাড়া জীবনে কিছুই করা যায় না। অর্থ জীবনের চালিকাশক্তি। চাকরি করে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন, তবে সে উপার্জন হবে সীমিত।

খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারলেও সে অর্থ দিয়ে শখ-আহ্লাদ পূরণ না-ও হতে পারে। অর্থ-প্রাচুর্যের বিলাসিতায় জীবন কাটাতে চাইলে ব্যবসা হচ্ছে ভালো উপায়। ব্যবসা করতে চাই পুঁজি। অনেকেই ভাবেন, ব্যবসা করতে বড় পুঁজি লাগে, ছোট পুঁজির ব্যবসা করে লাভ নেই। কিন্তু তারা ভুলে যায়-

“ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল
গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।”

আজকের আপনার ছোট পুঁজিই আগামীকালের বড় পুঁজি। ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন বিপুল অর্থের মালিক। অল্প পুঁজি নিয়ে খুব সহজেই শুরু করা যায় এমন পাঁচটি ব্যবসায়ের আইডিয়া নিয়ে আলাপ করবো আজ।

বইয়ের ব্যবসা

বই আমাদের জ্ঞানের আলো দেয়, আমাদের শিক্ষিত করে। মনের খোরাক জোগাতে তো বটেই, স্কুল কলেজে পরীক্ষার বৈতরণী পার হতেও বই পড়তে হয় আমাদের। এক শ্রেণী থেকে আরেক শ্রেণীতে উঠতেই প্রয়োজন হয় অনেক বই। তাই, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে বইয়ের চাহিদাও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বইয়ের কী পরিমাণ চাহিদা বাংলাদেশে আছে তা ঢাকার নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেটে গেলে খুব সহজেই বোঝা যায়।  

দেশি বই তো বটেই, অভিজাত পাঠকদের মাঝে আছে বিদেশী বইয়ের চাহিদাও। খুব অল্প পুঁজিতে ছোটো একটি দোকান ভাড়া নিয়ে বইয়ের ব্যবসা শুরু করতে পারেন আপনি। দোকান ভাড়া না নিয়েও ই-কমার্স বা এফ-কমার্সের সাহায্যেও ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার পুঁজিও লাগবে অনেক কম। ধীরে ধীরে বড় ব্যবসার মালিক হয়ে অনেক মুনাফা লাভ করতে পারবেন আপনি। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের চেরাগীর মোড়ে মাত্র ১০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে যাত্রা করা বাতিঘরের এখন ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে দেশব্যাপী পরিচিত সুপরিসর তিনটি দোকান।

বই ব্যবসার সফল উদাহরণ বাতিঘর; image source: facebook.com

বাতিঘরের ব্যবসা এখন প্রকাশনী এবং ক্যাফে পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এক ঢাকার আউটলেটেই তাদের পঁচিশ হাজারেরও বেশি প্রকাশনীর বই রয়েছে। 

পোশাকের ব্যবসা

পোশাক মানুষের অবশ্যই দরকার। উৎসবে, ঈদে, পূজা-পার্বনে নতুন পোশাক কেনার চলটি অনেক পুরোনো। অল্প পুঁজিতে এই ব্যবসায় অধিক লাভ বলে অনেকেই এই ব্যবসা শুরু করেন। তবে ধৈর্য্য, উদ্ভাবনী শক্তি ও টিকে থাকার কৌশলের অভাবের কারণে এই ব্যবসা থেকে সবাই লাভ করতে পারে না। ক্রেতারা আপনার কাছ থেকে পোশাক তখনই কিনবে যখন আপনি নতুন ধাঁচের ভালো মানের পোশাক ন্যায্যমূল্যে তাদের জন্য তৈরি করবেন। এই ব্যবসা আপনি ই-কমার্স বা এফ-কমার্সের মাধ্যমে চালাতে পারেন।

নবনীতা রায় এবং সামিয়া বিনতে আলমগীর গ্রাম্পি ফিস নামে একটি অনলাইন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে টি-শার্ট এবং হুডি বিক্রি করেন। তারা প্রখ্যাত সাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার, সাহিত্য বা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, গানের দল ইত্যাদি বিষয়ের ডিজাইনে চমৎকার সব টি-শার্ট ও হুডি তৈরি করেন।

গ্রাম্পি ফিশ; Image Source: facebook.com

তরুণ-তরুণীদের মাঝে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে তাদের টিশার্টের। অনেকেই থিমেটিক টিশার্ট বিক্রি করলেও তাদের স্বাতন্ত্র্য খুব সহজেই চোখে পড়ে। ছাত্রাবস্থায় খুব অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করলেও মেধা ও অভিনবত্ব নিয়ে ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছে তারা।

অঙ্গসজ্জার সেবা প্রদানের ব্যবসা

সবাই চায় তাকে সুন্দর দেখাক। এই সুন্দরের প্রতিযোগিতায় নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও এখন সমানতালে দৌড়াচ্ছে। একইসাথে বাড়ছে অঙ্গসজ্জা সেবার কদর। ঢাকা শহরের মেকওভার পার্লারের সংখ্যা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় এসময়ে অঙ্গসজ্জা সেবার চাহিদা কতটা উর্ধ্বমুখী। শুধু বিয়ের সাজের জন্য নয়, নিজেকে অন্যের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে নারী-পুরুষ সবাই এখন মেকওভার পার্লারে যায়। খুব অল্প পুঁজিতে বা সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে খুব ছোট পরিসরে অল্প জায়গায় অঙ্গসজ্জার সেবা দেওয়ার ব্যবসা শুরু করতে পারেন আপনি।

কানিজ আলমাস খান ২০০৮ সালে স্বল্প পরিসরে পারসোনা নামে অঙ্গসজ্জার সেবাদানের ব্যবসা শুরু করেন। সেই পারসোনা এখন সারা ঢাকা শহরে সেবা প্রদান করে চলেছে।

অঙ্গসজ্জা সেবাদান ব্যবসায়ে সফল পারসোনা; image source: persona.com.bd

স্টেশনারির ব্যবসা

খাতা, কলম, কাগজ, স্কেল, পেন্সিল, রঙ পেন্সিলের চাহিদা কখনো কমেনি, বরং বাড়ছেই। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের মাঝে স্টেশনারী পণ্যের চাহিদা অনেক। অফিস-আদালতেও এসব পণ্যের চাহিদা ব্যাপক। শুরু খুব অল্প পুঁজিতে এই ব্যবসা শুরু করতে খুব দ্রুতই ব্যবসা এবং মুনাফা দুটোই বাড়তে থাকে।

স্টেশনারি প্রায় সব পণ্যই পাবেন গ্রাসহোপার্সে, image source: foursquare.com

ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত আজিজ সুপার মার্কেটের তিনতলায় ‘গ্রাসহপার্স’ নামে স্টেশনারি দোকানটি অবস্থিত। নান্দনিক সব স্টেশনারি দ্রব্যের জন্য এই দোকানটি বেশ পরিচিত। ছবি আঁকার জন্য যা দরকার তার প্রায় সবই পাবেন এখানে। আছে চমৎকার সব কাভারের নোটবুক।

মুদি দোকানের ব্যবসা

যেখানে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিস, যেমন- চাল,ডাল, তেল, লবণ, চিনি, আটা, সাবান, সুজি, ময়দা ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায় সেটিই হলো মুদি দোকান। সবচেয়ে সহজে করা যায় এমন ব্যবসার তালিকা করলে এটি একদম শুরুর দিকেই থাকবে। এই ব্যবসা থেকে লাভ কেমন হয় তা আপনার এলাকার মুদি দোকানীর কথা একবার ভাবলেই বুঝলে পারবেন। এ ব্যবসায়ে ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অল্প পুঁজিতে এই ব্যবসা শুরু করলে দেখবেন খুব অল্প দিনে বিক্রি বাড়ার সাথে সাথে লাভও বেড়ে যায় অনেক।

আমরা মাত্র পাঁচটি আইডিয়া নিয়ে কথা বললেও সহজে ব্যবসা করার আরো অনেক আইডিয়া আছে। যে ব্যবসাই আপনি করুন না কেন, ব্যবসায়ে সাফল্য ও লাভের মুখ দেখতে আপনাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে, মেধা খাটাতে হবে এবং অবশ্যই ক্রেতাদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।

Written by Sadman Sakib

যে ১০টি নীতি পাল্টে দিয়েছিল বিল গেটসের জীবন

অনলাইনে যেভাবে টাকা আয় করবেন