বাংলাদেশে দশটি খণ্ডকালীন চাকরি

বাংলাদেশে খণ্ডকালীন চাকরি খুঁজতে গিয়ে মাথা খারাপ হওয়ার মতো অবস্থা হয়। কোন চাকরি উপযুক্ত এবং কিভাবে সেটি পেতে হয় সেটি ভেবেই অনেকটা সময় চলে।

খণ্ডকালীন চাকরিতে কাজ যেহেতু পূর্ণকালীন চাকরির মতো নয়, সেহেতু খুব কম চাকরিদাতাই খণ্ডকালীন কাজের জন্য মোটা অঙ্কের বেতন দেয়। কাজের প্রতি আগ্রহ এবং কোন সময়টায় কাজ করতে ইচ্ছুক এসবের ওপর ভিত্তি করে খণ্ডকালীন চাকরি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তাদের হাতখরচ এবং অনেকক্ষেত্রে জীবিকা নির্বাহের জন্যও পড়াশোনার পাশাপাশি ঘণ্টাভিত্তিতে খণ্ডকালীন কাজ করছে।

সন্তোষজনক আয় হয় এমন দশটি খণ্ডকালীন কাজের কথাই বলবো এখন।   

শিক্ষাদান কাজে সহযোগী

প্রায় সব স্কুল ও কলেজে শিক্ষাদান কাজে খণ্ডকালীন ভিত্তিতে সহযোগী বা গবেষণাগার সহযোগী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ইদানিং দেখা দিয়েছে। পড়াশোনার বিষয়ের ভিত্তিতে আবেদন করা যেতে পারে এসব কাজে। যেমনঃ কম্পিউটার ল্যাব সহকারীর কাজ করতে চাইলে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা তথ্যপ্রযুক্তির ছাত্র হলে ভালো।

এটি একদিকে পরোক্ষ আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে শেখা যায়। এই কাজ করতে শিক্ষক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। শুধু বিষয়ের ওপর ভালো ধারণা এবং পাঠদানের বিভিন্ন পদ্ধতির প্রয়োগই এক্ষেত্রে যথেষ্ট।

পেশাদার ব্লগিং করা

পেশা হিসেবে ব্লগিং বেছে নেওয়ার আগে সফল পেশাদার ব্লগারদের আয় দেখে নেওয়া ভালো। তারপর ব্লগিং শুরু করা যেতে পারে যেখানে ভাবনায় কেউ বাঁধা দেবে না আর নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচিতিটাও হয়ে যাবে।

ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগার অথবা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সাইনআপ করে গুগল অ্যাডসেন্স মনিটাইজেশন অথবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আয় শুরু করা যেতে পারে।

ওয়ার্ডপ্রেসে ব্যক্তিগত ব্লগ তৈরি করা যায়; Image Source: wordpress.org

অফিস সহকারী

গ্রীষ্মের ছুটি বা বড় কোনো ছুটিতে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করা যেতে পারে। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে এটি আয়ের ভালো উপায়। অফিস সহকারী বা ল্যাব সহকারী হিসেবে কাজ করলে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বাড়তি জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। কম্পিউটার চালনার জ্ঞান ও দক্ষতা সহজেই চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা করে।  

শিক্ষকতা করা

সকালে বা সন্ধ্যার সময় ছাত্রছাত্রী পড়ানো যেতে পারে। এতে করে পকেটে যেমন টাকা আসে তেমনি ফেলে আসা পুরানো পড়াগুলো আবার ঝালাই করার সুযোগ পাওয়া যায়। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্থ আয়ের এটিই সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী উপায়। এক্ষেত্রে শিক্ষক চেয়ে বিজ্ঞাপনগুলো দেখে যোগাযোগ করতে হবে। এই পেশাটি বাংলাদেশের খণ্ডকালীন পেশাগুলোর মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

ফ্রিল্যান্স কনটেন্ট লেখার চাকরি

লেখার আগ্রহ এবং প্রতিভা থাকলে ফ্রিল্যান্স কনটেন্ট লেখার কাজ করা যেতে পারে। এতে ছাত্রজীবনে কিছু অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। ফ্রিল্যান্সার ডট কম, আপওয়ার্ক ডট কম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু স্থানীয় গ্রুপের মাধ্যমে এসব কাজ পাওয়া যায়। 

আপওয়ার্কে কনটেন্ট লেখার কাজ পাওয়া যায়; Image Source: upwork.com

লেখার দক্ষতা ও গতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা বা তারও বেশি আয় করা সম্ভব।

ডেটা এন্ট্রির চাকরি

ভালো টাইপিং গতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভালো জানাশোনা থাকলে অনলাইন ডেটা এন্ট্রির কাজের জন্য সাইনআপ করা যেতে পারে। অবসর সময়ে অনলাইন এবং অফলাইনে ডেটা এন্ট্রির কাজ করে বাড়তি অর্থ আয় করা যায়।

ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও ডেটা এন্ট্রির কাজ করা যায়। এটি খণ্ডকালীন ভালো কাজগুলোর একটি।  

ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর চাকরি

ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর চাকরি করতে হলে আগে নিবন্ধন করতে হবে। এমনকি এইচ এস সি পাশ হয়েও ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলে এই চাকরি করা সম্ভব। দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই কাজ থেকে মাসে ৭ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করা যায়।

একদম বিনামূল্যে এ কাজের জন্য নিবন্ধন করা যায় এবং বিভিন্ন উৎসে এই চাকরির জন্য চেষ্টা করা যায়। যেমনঃ সাইবার এক্সপো এস এম এস পাঠানোর চাকরি নেওয়া যেতে পারে।

এই সাইটে কাজ করলে বাড়তি আয় করা সম্ভব। এই চাকরি পড়াশোনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। এই চাকরি করতে চাইলে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগের থাকলেই হবে।

বিজ্ঞাপন পোস্ট করার কাজ

ইন্টারনেটে অনেক বিজ্ঞাপন পোস্ট করার কাজের সাইট রয়েছে যারা ফ্রিল্যান্স বিজ্ঞাপন পোস্টিং এর কাজের সুযোগ দেয়। ইন্টারনেটে শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন এখন জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যম। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি গৃহিণীরাও তাদের দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে এই কাজ করতে পারে। এই কাজে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় হয়।

ফিটনেস প্রশিক্ষক

চাকরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও শারীরিক যোগ্যতা  বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। সারাদিন কাজের পর অনেকেরই জিমে যাওয়ার সময় এবং ইচ্ছা কোনোটিই থাকে না। এক্ষেত্রে তাদের প্রাইভেট কোচ বা ফিটনেস ইনস্ট্রাকটরের প্রয়োজন হতে পারে। এই কাজে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খুব সহজেই মোটা অঙ্কের অর্থ কামানো সম্ভব।

ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে কাজে যথেষ্ট অর্থ আয় করা সম্ভব; Image Source: globalfitness.edu.au

অভিনেতা বা মডেল হিসেবে কাজ করা

অভিনয় বা বিনোদন জগতে কাজ করার ইচ্ছা থাকলে এক্ষত্রে ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ রয়েছে। অনেকেই মনে করে থাকেন এই কাজটি শুধু নারীদের জন্য। ব্যাপারটি মোটেও তেমন নয়। বিনোদন জগতে পুরুষদেরও ভালো চাহিদা রয়েছে। এই কাজের জন্য অভিনয় জানা, সুন্দর বাচনভঙ্গি এবং পরিপাটি বাহ্যিক রূপ থাকা দরকার।

এসকল কাজের বাইরে আরো অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো থেকে খণ্ডকালীন ভিত্তিতে আয় করা সম্ভব। তবে সেজন্য প্রয়োজন কাজের প্রতি আগ্রহ এবং দক্ষতা।  

ফিচার ছবি: careeraddict.com

Written by Sadman Sakib

রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত ৫টি আয়ের ক্ষেত্র